সার্চ ইঞ্জিন (গুগল, ইয়াহু, বিং ইত্যাদি) কী এবং কিভাবে কাজ করে – ইনফোগ্রাফ!

ইন্টারনেট চেনে অথচ গুগল (Google) চেনে না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। গুগল একটি ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন। সার্চ ইঞ্জিন বা বাংলায় অন্বেষণ যন্ত্র কী? ইন্টারনেট ব্রাউজার খুলে নিয়ে কোন শব্দ, বর্ণ বা চিহ্ন লিখে সার্চ বাটন প্রেস করলে সে সংশ্লিষ্ট লেখা, ছবি ভিডিও সব বের হয়ে আসে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি যেই কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে করা হয় সেটা সার্চ ইঞ্জিন।

গুগল ছাড়াও আরো দুটি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হলো ইয়াহু (Yahoo) এবং বিং (Bing)। আমাদের কম্পিউটারে যে উইন্ডোজ (Windows) অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহার করি সেটার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম মাইক্রোসফট (Microsoft)। মাইক্রোসফট এর বানানো সার্চ ইঞ্জিনের নাম বিং।

একসময় বিপুল জনপ্রিয় ছিলো ইয়াহু (Yahoo)। এমনকি গুগল চেয়েছিলো মাত্র এক মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় আশি লক্ষ টাকায় ইয়াহুর কাছে বিক্রি হয়ে যেতে। ইয়াহু সেই প্রস্তাব নাকোচ করে দেয়। এরপর কিভাবে ইয়াহু প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেটা অন্য গল্প, আরেকদিন হবে।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেট শেয়ারের ইনফোগ্রাফটি খেয়াল করলে বাংলাদেশে গুগলের জনপ্রিয়তা বুঝতে সমস্যা হয় না।

Search Engine Market Share info-graphic July 2020- সার্চ ইঞ্জিন মার্কেট শেয়ার ইনফোগ্রাফিক mhmmdabutaleb.com_

সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে তা জানার আগে ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে সেটা জানা জরুরী।

ইন্টারনেট কী?

ইন্টারনেট! সভ্যতার যাদুকরী এক আবিষ্কার! পুরো দুনিয়ার ভোল পাল্টে দিলো। ইন্টারনেটের সাথে প্রথম পরিচয় বাল্যকালে। সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে ঘন্টা হিসাবে ইন্টারনেট সংযুক্ত কম্পিউটার ব্যবহার করা যেত। যে বন্ধুর সাথে গিয়েছিলাম তার নাম ও আজ মনে নেই। তখন ক্লাস সিক্স এ পড়তাম বোধহয়। ছুটির পর গিয়েছিলাম স্কুলের পাশের সাইবার ক্যাফেতে। চারদিকে তখন ভিডিও গেম সেন্টারগুলোর জয়জয়কার। ভেবেছিলাম ইন্টারনেটে হয়তো আরো ভালো কিছু ভিডিও গেম খেলা যাবে।

কম্পিউটারের সামনে বসে বন্ধুটি যখন মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার চালু করে বলে এটাই ইন্টারনেট, বেশ থমকে গিয়েছিলাম। শেয়ালের এনিমেশনটা দেখে মজা পেয়েছিলাম কিন্তু এরপর দেখি নড়ে না, কয়েন দিতে বলে না, এ কেমন কথা! এটা দিয়ে আমি কি করবো! সব উৎসাহ-উদ্যম মিইয়ে গিয়েছিলো। প্রথম অভিজ্ঞতা সুখকর ছিলো না তাই খুব বেশি আগ্রহ জাগেনি।

এরপর স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ। ইন্টারনেট তখন কিছুটা পরিপক্ক। মনে আছে কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে এক বন্ধু বেঞ্চের নিচে মোবাইল রেখে ইন্টারনেটে চ্যাটিং করতো। কৌতূহল থেকে জানতে চাই, কি করিস? বলে, Mig 33 চালাই। খুব বেশি আগ্রহ কাজ করেনি এবারো।

HSC পরিক্ষার পর হাতে অফুরন্ত সময়। সেই বন্ধুকে ফোন দিয়ে জানতে চাই, Mig 33 কি ছিলো? বন্ধু তখন বুঝিয়ে বলে। তার কথায় মোবাইলে ২০ টাকার ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনলাম, Mig 33 একাউন্ট খুলি আর সেই প্রথম জেনে বুঝে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় প্রবেশ। নেশা ধরে গেলো, সেই নেশা এখনো কাটেনি।

আগে ইন্টারনেট শুনলে মনে ভেসে উঠতো অদৃশ্য অস্পৃশ্য কোন উৎস থেকে ভেসে আসা লেখা, ছবি বা ভিডিও। অনেকটা মেঘে মেঘে যোগাযোগ।

প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেট মানে এক কম্পিউটারের সাথে আরেক কম্পিউটারের যোগযোগ। যেমনটা হয়ে এসেছিলো সেই টেলিগ্রাফের যুগে। টেলিগ্রাফের তারের জায়গা করে নিয়েছে সাবমেরিন ক্যাবল। ফলে আগের চাইতে অনেক বেশি ডেটা দ্রুততার সাথে আদান প্রদান করা যায়।

ধরেন আপনি ফেসবুকে কোন ছবি আপলোড করলেন। সেই ছবি ফেসবুক তার কম্পিউটারে ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করবে। আমি যখন সেই ছবি দেখতে চাইবো ফেসবুক তখন তার কম্পিউটারে জমা রাখা ছবিটি আমাকে দেখাবে। একইভাবে লেখা, অডিও, ভিডিও সব দেখানো হয়। আফসোস! কিছুই বাতাস থেকে উদয় হয় না!

ফেসবুকের এই কম্পিউটারগুলোর ধারণ এবং কার্যক্ষ্মতা ক্ষমতা বেশি তাই এগুলোকে কম্পিউটার না বলে সার্ভার বলা হয়।

সার্চ ইঞ্জিন কী?

যেকোন সার্চ ইঞ্জিন ঠিক ফেসবুকের মতোই সবকিছু নিজেদের কম্পিউটার তথা সার্ভারে ডাউনলোড করে নেয়। এরপর আমাদের চাহিদামতো সেগুলো পরিবেশন করে। সার্চ ইঞ্জিনকে লাইব্রেরির সাথে তূলনা করা চলে

[sociallocker]

লাইব্রেরির বিভিন্ন তাকে থরে থরে বই সাজানো থাকে। খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে সূচিপত্র অনুযায়ী সাজানো হয়। কেউ কোন নির্দিষ্ট বই চাইলে লাইব্রেরি কর্মীরা সহজেই খুঁজে দিতে পারে। ইতিহাসের বই চাইলে রসায়ন বই দেয় না। লাইব্রেরী কতৃপক্ষ চাইলে কারো বই সংগ্রহে রাখে, কারোটা রাখে না।

সার্চ ইঞ্জিন ঠিক এই কাজটিই করে। প্রথমেই তারা প্রকাশিত সকল ওয়েবসাইট নিজেদের সূচিপত্রে অন্তর্ভূক্ত করে নেয়। এরপর চাহিদা অনুযায়ী সাজিয়ে উপস্থাপন করে। সার্চ ইঞ্জিন তাদের ইচ্ছেমতো কিছু ওয়েবসাইট নিজেদের সার্ভারে রাখে, কিছু রাখে না। নিজেদের সার্ভারে ওয়েবসাইট রাখা হবে কি হবে না এই ব্যাপারে প্রতিটা সার্চ ইঞ্জিনেরই কিছু নীতিমালা সাজানো আছে।

[/sociallocker]

ওয়েব কন্টেন্ট প্রকাশকগণ যদি সেসব নীতিমালা অনুযায়ী কন্টেন্ট সাজাতে ব্যার্থ হয় তাহলে সার্চ ইন্ডেক্স বা সূচীপত্রে জায়গা হবে না।

সার্চ ইন্ডেক্সে জায়গা করে নিলেই কাজ শেষ হয়ে গেলো না। সার্চ ইঞ্জিন যেহেতু সবকিছু নিজেদের মর্জিমতো সাজিয়ে নেয় তাই এই যন্ত্রের মর্জি বুঝতে হবে। যে যতো ভালোভাবে বুঝে নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটকে সাজাতে পারবে সার্চ ইঞ্জিনগুলোর রেজাল্ট পেইজে সেই ওয়েবসাইটকে ততো আগে দেখাবে।

মানুষ যদি প্রথম ওয়েবসাইটটি ঘুরেই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারে তাহলে পরের সাইটটিতে যাবে না। তাই যেকোন প্রকাশকের জন্য সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পছন্দ হওয়াটা জরুরি। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কিভাবে প্রথম হওয়া যাবে? সে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ, রয়ে সয়ে বলা লাগবে। আস্তে ধীরে গুছিয়ে নিয়ে বলতে চেষ্টা করবো।

আপনাদের কোন প্রশ্ন, মতামত বা চাহিদা থাকলে কমেন্টে জানান। এই লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে উৎসাহ জানান। নিয়মিত আপডেট পেতে ইমেইল নোটিফিকেশন চালু করে রাখতে পারেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
>
Scroll to Top